বিয়ের নাটক সাজিয়ে স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ, মামলা তুলে নিতে হুমকি

ভুয়া কাবিন নামায় স্কুল শিক্ষিকাকে বিয়ের পর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনি নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় মামলা করেছেন স্কুল শিক্ষিকা। এতে রনিসহ আরো চারজনের নামে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির মুঠোফোনে কল দিলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে মামালায় ওই শিক্ষিকাকে থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হলে সেখানে গিয়েও এক নারী তাকে মামলা প্রত্যাহারে চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

- Advertisement -

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রংপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০১৭ সালে রংপুর মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরমধ্যে রনি তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করলে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল বিয়ের কথা বলে তাকে নীলফামারীতে নিয়ে যান রনি। সেখানে রনির পরিচিত সজল কুমারের বাসায় নিয়ে ভুয়া কাজী এনে তাকে বিয়ে করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই স্কুল শিক্ষিকাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় রনি তার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গত ৫ জুন রনি নগরীর কেরানীপাড়ায় তার ভাড়াবাসায় যান এবং সেখানে তার সঙ্গে রাত্রিযাপন করেন। এ সময় স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিলে রনি তার কাছ থেকে আরো ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে রনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দেন।

এ সময় শিক্ষিকা বিয়ে হয়েছে এবং স্ত্রীর অধিকার দাবি করলে রনি জানান, ভুয়া কাবিননামা দিয়ে বিয়ে করা হয়েছে এবং ওই কাবিননামা ও কাজীকে কোনোদিন খুঁজে পাওয়া যাবে না। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে গত ১২ জুলাই রনির ফুপুর বাসা নগরীর গণেশপুর ক্লাবমোড়ের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করলে রনি অপর আসামিদের সহযোগিতায় তাকে ওই বাসা থেকে বের করে সেনপাড়ার একটি মোটরসাইকেল শোরুমে নিয়ে যান। সেখানে আপোষনামায় স্বাক্ষরের জন্য মারধর করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মীমাংসায় ব্যর্থ হওয়ায় থানায় মামলা দায়ের করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেন ওই শিক্ষিকা। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

এদিকে সোমবার রাতে থানার ভেতরে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে প্রবেশ করে রোজী রহমান এক নারী ওই শিক্ষিকাকে মামলা প্রত্যাহারে চাপ দেন। এ সময় তাকে হুমকি ও দেখে নেয়ার কথা বলে শাসিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্কুল শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় পুলিশ।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুর রশিদ বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন